প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কিছু কাজ (পাঠ ৩২ ও ৩৩)

আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.3k

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আমরা সবাই কোনো না কোনো কাজ করে থাকি। এর মধ্যে কিছু কাজ আছে যেগুলো অবশ্যই করতে হবে। প্রতিদিন আমরা নিজের প্রয়োজনে নিজে বা অন্যের সহায়তায় যে কাজগুলো করে থাকি, সেগুলোকে আমরা প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ বলে অভিহিত করতে পারি।

কাজ

তোমরা প্রত্যেকে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে যাও। এবার প্রত্যেক দল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী কী কাজ থাকতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করো। প্রত্যেক দলের একজন দাঁড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজের তালিকাটি সবার সামনে পড়ে শোনাও।

ক্রমপ্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ
ঘুম থেকে উঠে বিছানা গোছানো
দাঁত ব্রাশ করা ও হাত-মুখ ধোয়া
…………………………………………………………
…………………………………………………………
…………………………………………………………
…………………………………………………………
…………………………………………………………
…………………………………………………………

এ বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য আমরা দুটো ঘটনা চিন্তা করি:

ঘটনা ১: ইমরানের বয়স নয় বছর। ইমরান প্রতিদিন সকালে ঘুমথেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নেয়। তারপর দাঁত ব্রাশ করে হাতমুখ ধোয়। নাস্তা তৈরি হলে সে নাস্তা খেয়ে পড়তে বসে। স্কুলের পড়া শেষ হওয়ার পর স্কুলে যাওয়ার জন্য বই-খাতা গুছিয়ে নেয়। তারপর গোসল করে পরিপাটি হয়ে পাড়ার অন্য বন্ধুদের সাথে স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি হলে বাড়িতে এসে হাত-মুখ ধুয়ে খাওয়া-দাওয়া করে একটু বিশ্রাম নেয়। বিকেলে সে বন্ধুদের সাথে খেলতে যায়।

সন্ধ্যা হলে সে বাড়ি ফিরে নিজেদের গবাদি-পশু পালনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতা করে এবং হাত-মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসে। পড়া তৈরি হলে রাতের খাবার খেয়ে দাঁত ব্রাশ করে। সবশেষে বিছানা তৈরি করে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

ঘটনা ২: আসমার বয়স দশ বছর। আসমা প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নেয়। তারপর দাঁত ব্রাশ করে হাতমুখ ধোয়। রান্নাঘরে নাস্তা তৈরি হলে সে নাস্তা খেয়ে স্কুলের কাজ তৈরি করতে বসে। স্কুলের কাজ শেষ হওয়ার পর স্কুলে যাওয়ার জন্য বই-খাতা ও ব্যাগ গুছিয়ে রাখে। তারপর গোসল করে পরিপাটি হয়ে পাড়ার সহপাঠীদের সাথে স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি হলে বাড়িতে এসে হাত-মুখ ধুয়ে খাওয়া-দাওয়া করে একটু বিশ্রাম নেয়। বিকেলে সে পাড়ার বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে।

সন্ধ্যা হলে সে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে এবং হাত-মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসে। পড়া তৈরি হলে রাতের খাবার খেয়ে দাঁত ব্রাশ করে। সবশেষে বিছানা তৈরি করে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

কাজ
তোমরা দুটি ঘটনা শুনলে। এই দুটি ঘটনার মধ্যে কি তেমন কোনো পার্থক্য খুজে পাচ্ছ? এবার তোমরা ইমরান ও আসমার কাজগুলো মিলিয়ে দেখ এবং এক এক করে বলার চেষ্টা করো।

  • একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।

তোমরা একটু খেয়াল করলেই দেখবে আসমা ও ইমরান দুজনে একই কাজ করছে। যেমন: আসমা ও ইমরান সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নিচ্ছে, দাঁত ব্রাশ করছে, হাতমুখ ধুয়ে নিচ্ছে, পড়তে বসছে, স্কুলের কাজ তৈরি করছে, স্কুলে যাওয়ার জন্য বই-খাতা গুছিয়ে নিচ্ছে, গোসল করছে, স্কুলে যাওয়ার জন্য পরিপাটি হচ্ছে, স্কুল থেকে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছে, খেলার সময় বন্ধুদের সাথে খেলতে যাচ্ছে, সন্ধ্যা হলে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরছে, পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছে এবং হাত-মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসছে, ক্লাসের পড়া তৈরি করছে, রাতের খাবার খেয়ে আবার দাঁত ব্রাশ করছে, সবশেষে বিছানা তৈরি করে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে। তারা দুজনে কাজগুলোর কোনোটিই কিন্তু বাদ দিচ্ছে না। আসমা ও ইমরান সারাদিন ধরে যে কাজগুলো করেছে, এগুলোকে বলা হয় প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ।
একইভাবে তোমাদের মা-বাবাও প্রতিদিন তাদের নিজ নিজ কাজ করে থাকেন। মা ঘর-দোর গুছিয়ে রাখেন, রান্না করেন, অফিসে কাজ করেন, তোমাদের পড়া তৈরিতে সহযোগিতা করেন ও অন্যান্য কাজে সহযোগিতা করেন আর বাবা অফিসে বা মাঠে কাজ করেন, বাজার করেন, মাকে তার কাজে সহযোগিতা করেন, তোমাদের পড়া তৈরিতে সহযোগিতা করেন ও বাসার অন্যান্য কাজ করেন। এরকম প্রত্যেক মানুষ প্রতিদিন তাদের নিজ নিজ কাজগুলো করে থাকেন। প্রত্যেকের এই কাজগুলোই হচ্ছে তাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ। দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যেকেরই এমন অনেক কাজ আছে, যেগুলো অবশ্যই করতে হয়।

বাড়ির কাজ

প্রাত্যহিক জীবনে তুমি কী কী কাজে সাহায্য কর বাড়ি থেকে তার একটি তালিকা তৈরি করে আনবে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...